বৃহস্পতিবার । ১৮ই জুন, ২০২৬ । ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ঘানার জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ম্যাচের অধিকাংশ সময় গোলশূন্য থাকার পর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইরেঙ্কির করা একমাত্র গোলে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ঘানা। প্রথমার্ধে পানামা আধিপত্য দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্ল্যাক স্টারসরা। শেষ পর্যন্ত তাদের ধারাবাহিক চাপই এনে দেয় মূল্যবান তিন পয়েন্ট।

টরন্টোতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচটির শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য দেখায় পানামা। দ্বিতীয় মিনিটে মুরিয়োর নিচু ক্রস থেকে সেসিলিও ওয়াটারম্যানের এক ছোঁয়ার শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগি। প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল মধ্য আমেরিকার দলটি, আর ঘানার বেশিরভাগ আক্রমণই সীমাবদ্ধ ছিল সেমেনিয়োর দিকে লম্বা বল পাঠানোর মধ্যে।

দ্বাদশ মিনিটে আরেকটি বিপজ্জনক ক্রস থেকে সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পায়নি পানামা। ১৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থামাতে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ঘানার ইরেঙ্কি।হাইড্রেশন বিরতির পর ঘানা ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। ৩০ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। অন্যদিকে ৩৪ মিনিটে হোসে মার্তিনেজকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পানামা পেনাল্টির দাবি তুললেও রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে দেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ঘানাকে একাধিকবার রক্ষা করেন আতি-জিগি। ৩৮ ও ৪০ মিনিটে বক্সের বাইরে এসে গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ করে পানামার সম্ভাবনাময় আক্রমণ ভেঙে দেন তিনি। তবে ৪১ মিনিটে কুঁচকির চোটে আক্রান্ত হন ঘানার এই গোলরক্ষক।গোলশূন্য সমতায় শেষ হওয়া প্রথমার্ধের পর বিরতির সময় আতি-জিগির বদলে মাঠে নামেন বেঞ্জামিন আসারে।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘানা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। ৪৮ মিনিটে সেট-পিস থেকে অ্যাডজেটের হেড এবং ৬৫ মিনিটে ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তের নিখুঁত ক্রস থেকে আন্দ্রে আয়ুর সুযোগ—দুটিই নষ্ট হয়। ৫৮ মিনিটে ফাতাওউ ও থমাস-আসান্তেকে নামানোর পর ঘানার আক্রমণে গতি বাড়ে।পানামাও সুযোগ তৈরি করেছিল। ৬৭ মিনিটে রামোসের নিচু শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমার্ধের মতো ধার দেখাতে পারেনি তারা।

শেষ ২০ মিনিটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ঘানা। ৭২ মিনিটে ফাতাওউকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন সিজার ব্ল্যাকম্যান। ৮৫ মিনিটে ইসমায়েল দিয়াজের শট সহজেই আটকে দেন আসারে।নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে থমাস-আসান্তে জালের দেখা পেলেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তখনও মনে হচ্ছিল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়েই শেষ হবে। কিন্তু যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আসে নির্ধারক মুহূর্ত। ইরেঙ্কির গোলে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু পায় ঘানা এবং ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে পানামা। শেষ মুহূর্তে কর্নারের সময় গোলরক্ষক অরলান্দো মস্কেরাও আক্রমণে উঠে আসেন। তার হেড থেকে ইসমায়েল দিয়াজ সুযোগ পেলেও শক্তিশালী ফিনিশ করতে পারেননি। বল নিরাপদে ধরে ঘানার জয় নিশ্চিত করেন বদলি গোলরক্ষক আসারে।

শেষদিকে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পানামার হার্ভে হলুদ কার্ড দেখেন। তবে স্কোরলাইনে আর কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে প্রথমার্ধে চাপে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ঘানা। মূল্যবান এই জয়ে বিশ্বকাপ অভিযানও দারুণভাবে শুরু করল ব্ল্যাক স্টারসরা।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন